Skip to main content

তুচ্ছ ঘটনায় পুত্রবধুর হাতে শাশুড়ি খুন!


 

( আব্দুল রহমান রিমন  )

বগুড়া প্রতিনিধি ;



বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের সরলপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় পুত্রবধূর অমানুষিক নির্যাতনে বৃদ্ধা শ্বাশুড়ী খুনের অভিযোগ উঠেছে। 


বুধবার দুপুর ২টায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনার পর থেকে পুত্রবধূ পলাতক রয়েছে। নিহত শাশুড়ী রাবেয়া আক্তার লিলি (৫৭)।

সরেজমিনে গিয়ে, বুধবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের সরলপুর মন্ডলপাড়া গ্রামে সুপারীর গাছ থেকে ঢাঁকসা পড়লে জৈনিক মুজিবুর রহমান মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার লিলি(৫৭) কুড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তার চালের উপরে শুকাইতে দিলে তার ছোট পুত্র মনির এর স্ত্রী জোসনা আকতার মিতা(২৮) সেই ডাঁসা তার বলে দাবি করে শ্বশুড়িকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাস করেন। একপর্যায়ে তাঁদের বাগবিতর্কের শুরু হয়। পরে তার স্ত্রী ঘর থেকে বাহিরে পানি আনতে গেলে পুত্রবধূ মিতা শ্বাশুড়িকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা লিলি বেগম। একপর্যায়ে বমন করতে থাকেন লিলি। এসময় প্রতিবেশীরা তাকে দ্রত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

শ্বাশুড়ির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায় পুত্রবধূ মিতা। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে মিজানুর রহমান মানুষ গড়ার কারিগর অর্থাৎ একজন শিক্ষক হলেও বাবা মায়ের কোন খোঁজ খবর রাখেন না। ২য় ছেলে মতিয়ার রহমানও তাই। ৩য় ছোট ছেলে মনির হোসেনও একই রকম। 

মেয়ে মুন্নি খাতুনের বিয়ের পর সে স্বামীর ঘরে। তাদের ৩ ছেলের কাছেই যেন তাদের বাবা-মা চোখের বিষ। ৩ ছেলে স্বাবলম্বী হলেও পিতা মাতা তাদের বড়ই বোঝা। পাশাপাশি থাকলেও কেউ বাবা মা'র খোঁজ রাখতেন না। তাদের বাবা মা'র সংসারের হাঁড়ি ছিল ভিন্ন। বৃদ্ধ বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামতি করেন। আর অসহায় বৃদ্ধা মা লিলি বেগম স্থানীয় একটি সরিষা তেল ফ্যাক্টরীতে বোতল লেভেল জাতকরনের কাজ করেই জীবনযাপন করতো। কোন সন্তানিই পিতা-মাতার খোজ খবর নেননি। কোন মতে তারা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতেন। আর তারা সবাই কারণে অকারণে তাদের বাবা মাকে অমানুষিক নির্যাতন করতেন বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন। 


খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার এসআই রুম্মান ও এএসআই উজ্জ্বল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। 

এবিষয়ে সদর থানার এসআই রুম্মান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরাতালহা রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। এলাকাবাসী দোষীদের দ্রত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানান।

Comments

Popular posts from this blog

শাজাহানপুরে সরিষার ব্যাপক চাষ করা হয়েছে

  আব্দুল রহমান রিমন ( শাজাহানপুর ) বগুড়া প্রতিনিধি :- বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের অপরুপ দৃশ্য । বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যেন বিছিয়ে আছে হলুদ চাদরে । চারপাশ ছড়িয়ে আছে সরিষা ফুলের গন্ধে । উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে , চলতি মৌসুমে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে এক হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে । যা গতবছরের চেয়ে ৪শ ৭০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে ।  এ বিষয়ে একাধিক সরিষা চাষি জানান, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে । তারা উচ্চ ফলনের আশায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সরিষার পরিচর্যা করতেছেন।

বগুড়ায় রেললাইনে বসে মোবাইল দেখতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ল অজ্ঞাত যুবক

  আব্দুর রহমান রিমন ( বগুড়া জেলা প্রতিনিধি ) :- বগুড়ার সদরে রেললাইনের ওপর ট্যাব মোবাইল ব্যবহারের সময় ট্রেনে কেটে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার শহরদীঘি এলাকার রেললাইনের ওপর বুধবার সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  অজ্ঞাত যুবকের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে হবে বলে ধারণা রেল পুলিশের। তার পরিচয় জানতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম কাজ করছে। বগুড়া রেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, সকাল আটটার দিকে লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ট্রেন বগুড়া ছেড়ে চলে যায়। এর পরে খবর আসে সদরের শহরদীঘি এলাকায় একজন ট্রেনে কাটা পড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার কাছে ভাঙ্গা ট্যাব মোবাইল, মানিব্যাগ, হেডফোন পাওয়া গেছে।  এসআই আমিনুল বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অজ্ঞাত এই যুবক হেডফোন কানে লাগিয়ে রেললাইনের ওপর বসে ছিলেন। এ জন্য ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে পারেনি। ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যায়। পরিচয় জানতে পিবিআই হাতের ছাপ  সংগ্রহ করছে।  তিনি আরও বলেন, মরদেহের সাথে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এলে মরদে...

শাজাহানপুরের পল্লীতে খলনায়ক মিশা সওদাগর

  আব্দুর রহমান রিমন,  শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী এলাকায় আকষ্মিক দেখা মিললো বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গণের জীবন্ত কিংবদন্তি ঢালিউডের দর্শক নন্দিত খলনায়ক মিশা সওদাগরের। মূলত: পল্লীর মানুষের জীবনযাত্রার খোঁজ নিতেই গত সোমবার রাতে আলিয়াহ্ পেইণ্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি:’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবিউল আউয়াল রবি’র গ্রামের বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের চকজোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে যান। সেখানে শীতার্ত দু:স্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণও করেন ঢাকাই ৮ শতধিক চলচ্চিত্রের সফল এই খলঅভিনেতা। তার সাথে ছিলেন ঢালিউডের আরেক খল অভিনেতা বাংলদেশ শিল্পী সমিতির কোষাধ্যক্ষ যাদু আজাদ। অপরদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সভাপতি মিশা সওদাগরের আগমনের সংবাদে রাতেই চকজোড়া গ্রামে গিয়ে তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু। শুধু তাই নয়, তাকে একনজর দেখতে আশপাশের উৎসুক নারী-পুরুষ ভিড় করে সেখানে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাজাহানপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাজেদুর রহমান সবুজ, শিক্ষক ও কলামিষ্ট রোটারিয়ান মেছবউল আলম ম...